প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
(ভিজিট : ৯)
সময় গড়ানোর সঙ্গে সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট যেন ক্রমে আরো বেশি ব্যাটিংবান্ধব হয়ে উঠছে। যেখানে একা তাওহিদ হৃদয় ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাটার প্রথম ইনিংসে উইকেটে সেভাবে থিতু হতে পারেননি, সেখানে তৃতীয় ইনিংস ও চতুর্থ দিনে এসে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাট করে চলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
উইকেটে বোলারদের জন্য কোনো রকম বাড়তি সহায়তা না থাকায় খুব সহজেই রান তুলে যাচ্ছেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা, যার ফলে তাদের লিড ইতিমধ্যেই ২০০ রানের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ২৩২ রান সংগ্রহ করেছে রোস্টন চেজের দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের বর্তমান লিড দাঁড়িয়েছে ২০২ রান। উইকেটে থিতু হয়ে দারুণ এক জুটি গড়ে এগিয়ে চলেছেন কাভেম হজ এবং টেস্টে অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম—যাদের নামের পাশে যথাক্রমে ৭১ ও ৫৮ রান রয়েছে। এই দুই ব্যাটার ইতোমধ্যে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেছেন মূল্যবান ১১৩ রান।
এর আগে গতকাল শনিবার প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে পড়ন্ত বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে দিন শেষ করেছিল ক্যারিবীয়রা। সেখান থেকেই আজ রোববার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হয়। দিনের শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার, যারা মিলে গড়ে তোলেন ৮৫ রানের অনবদ্য জুটি।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশি পেসাররা গতির ঝড় তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ধার হাতছাড়া হয়ে যায়, যেখানে উইন্ডিজ ব্যাটাররা অনায়াসেই স্বাগতিক পেস আক্রমণকে সামলে নেন। তবে এই জুটিতে ভাঙন ধরাতে সফল হন স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটেও আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পেরে তাইজুল-মিরাজরা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তবে আজ দিনের প্রথম সাফল্যটি এনে দেন অভিজ্ঞ তাইজুলই। তার ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৩৬ রান করে ফিরে যান জশুয়া ডা সিলভা।
এতে ভাঙে সফরকারীদের বিপজ্জনক উদ্বোধনী জুটি, যদিও ততক্ষণে দলীয় সংগ্রহে ৫৫ রানের লিড যোগ হয়ে গিয়েছিল।
ওপেনিং সঙ্গী সাজঘরে ফিরলেও অপরপ্রান্তে নিজেদের আক্রমণাত্মক ধারা বজায় রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন ওপেনার ব্রেন্ডন কিং। নতুন ব্যাটার কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাত খুলে রান তুলতে থাকেন। তবে দ্রুতগতিতে এগোতে থাকা দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৪ রান যোগ হওয়ার পর ব্রেকথ্রু এনে দেন মিরাজ। ৬১ রান করা ব্রেন্ডন কিংকে স্লিপে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন এই অফস্পিনার।