প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম
(ভিজিট : ১৬)
টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটাকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন তাওহিদ হৃদয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা এবারই প্রথম। সিলেট টেস্টে এই অবিশ্বাস্য কির্তি গড়ার পথে খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়েছেন বাংলাদেশকেও।
প্রতিপক্ষের পাহাড়সম রানের জবাবে মাত্র ১৭২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তার ওপর ওপেনার সাদমানের ইনজুরিতে দলের হাতে ছিল মাত্র ২ উইকেট। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন ২৫ বছর বয়সি এই ব্যাটার। বাংলাদেশ দলের জন্য কেবল লিডের স্বপ্নই জাগিয়ে ক্ষান্ত হননি হৃদয়, বরং অবিশ্বাস্য ও রেকর্ডগড়া এক ইনিংসে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটিকেই সরাসরি ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে অনন্য এক ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের মাত্র চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত ডাবল সেঞ্চুরির ক্লাবে নাম লেখালেন তাওহীদ হৃদয়।
এর আগে টেস্টে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডটি ছিল মুমিনুল হকের (১৮১ রান)। মুমিনুলের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড পেছনে ফেলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই দ্বি-শতকে উন্নীত করলেন হৃদয়। এর আগে দেশের হয়ে টেস্টে তিন জন ব্যাটার মিলে মোট পাঁচটি ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন।
তাদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম একাই তিনটি এবং সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই অভিজাত ও সোনালী তালিকায় এবার চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে যুক্ত হলো তাওহীদ হৃদয়ের নাম।
এ ছাড়া সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ২২ গজেও এটিই প্রথম কোনো টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। এর আগে এই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটি ছিল বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান এবং শ্রীলঙ্কান ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিসের ১৬৪ রান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও এর আগে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার ব্যক্তিগত ১৫০ রানের কোটাও ছুঁতে পারেননি।
তাওহীদ হৃদয়ই প্রথম ব্যাটার হিসেবে সেই অদৃশ্য দেয়াল টপকে সরাসরি ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন। দলের চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে ৩০৪ বল মোকাবিলা করে ১৯টি চারের পাশাপাশি ৭টি চোখ জুড়ানো ছক্কায় নিজের এই অবিস্মরণীয় ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসটি সাজান তিনি। হৃদয়ের এই মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করেই এখন প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ, যেখানে সফরকারী ক্যারিবীয়রা ব্যবধানের দিক থেকে মাত্র ১০ রানে এগিয়ে রয়েছে।
এই রেকর্ডগড়া যাত্রায় অষ্টম উইকেটে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। দুজনের এই জুটি থেকে আসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১১৭ রান, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। এই উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১৪৪ রানের জুটিটি রয়েছে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদি হাসান মিরাজের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই জুটিটি গড়েছিলেন তারা।