প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম
(ভিজিট : ১২)

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে বাংলাদেশকে আরও তিন বছর প্রস্তুতির সময় দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে পারবে বাংলাদেশ। নেপালও একই ধরনের সময় বাড়ানোর সুবিধা পেয়েছে।
এলডিসি উত্তরণের পর অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ আরও সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিদ্ধান্তসংক্রান্ত প্রস্তাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপ্রবাহে বিঘ্ন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সময়সীমা বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো এবং এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্যসুবিধা হারানোর পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানিকারকদের প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এবং জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি) বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদারদের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রগতি সম্পর্কে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে।
এর আগে ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করায় বাংলাদেশ উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে এর আগে দেশটিকে দুই বছর সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ এই সময় বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারসহ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা কমে যেতে পারে। এতে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাণিজ্যব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাচ্ছে। অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়ায় ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা পরিবর্তিত বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখার প্রস্তুতি নিতে পারবেন।