প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম
(ভিজিট : ৬)

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার আপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আপ্রতিমকে হত্যা করা হয়।
অভিযোগপত্রে ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিন ও দুই কিশোরকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেক ১৯ বছর বয়সী তরুণ সিয়ামের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তুহিন ও সিয়াম কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। দুই কিশোরকে গাজীপুরের একটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আপ্রতিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই পাহাড়ের কাছে সানন্দা এলাকার একটি ঝোপঝাড়পূর্ণ স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুহিন আপ্রতিমকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে আপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে দুই কিশোরও তাকে আঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনজন মুঠোফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। পরে তার বাড়ি থেকে আপ্রতিমের মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আপ্রতিম ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও মুঠোফোন ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা করেন।
ছেলের হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ছেলেকে ঘিরেই তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন ছিল। হত্যাকারীরা সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। অভিযুক্তদের বয়সের কারণে যেন তারা বিচারের বাইরে চলে যেতে না পারে, সে জন্যও আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যাবে না।