
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় দেশটির কাছে বিস্তারিত তথ্য ও রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম সৌদি আরবের কারাগারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকায় ছিল কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শহীদ আহমেদ আশিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়ের কপি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে তাদের মামলার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি ঢাকা।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পাঠানো ১৮ অক্টোবরের একটি গোপনীয় নথিতে বলা হয়েছে, দুই বাংলাদেশিকে পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক রাখা হয়েছিল। তবে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য জানায়নি বলে ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ১৪ অক্টোবর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কা অঞ্চলে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একটি মসজিদের ভেতরে অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর সাজায় দণ্ডিত হলে কূটনৈতিক চ্যানেলে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ। সম্ভব হলে সাজা কমানো কিংবা ক্ষমার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি জটিলতা সমাধানে সরকার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। তবে অন্য দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশ সম্মান প্রদর্শন করে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কোনো ধরনের তথ্য না পাওয়ায় তাদের মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।