রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ এএম  (ভিজিট : ১৫)
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে সক্রিয় বলে পরিচিত জলদস্যু বাহিনী ‘আলিফ বাহিনী’র দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বাহিনীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন রয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে তাঁরা এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদ জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের যেসব বনদস্যু ও জলদস্যু অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাঁদেরও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এসআরবি-৬ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন বলে সূত্রটি জানায়।

নিস্তার আহমেদ বলেন, আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীর নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

তবে সুন্দরবনে দস্যুতা পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এসআরবি-৬-এর এই কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যু চক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণ করা কিছু সদস্যের পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে আত্মসমর্পণের পাশাপাশি দস্যুদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানোও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এসআরবি-৬-এর অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন নিস্তার আহমেদ। তিনি বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]