শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


সুতিয়া নদী পুনরুদ্ধারে ৪৪ কোটি টাকার প্রকল্প
৯৮ কিলোমিটার নদী খননে কাটা হবে ৪৫ লাখ ঘনমিটার মাটি, কমবে জলাবদ্ধতা—বাড়বে কৃষি উৎপাদন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম  (ভিজিট : ১৯)

দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার অবসানে ময়মনসিংহের ত্রিশালে সুতিয়া নদী পুনরুদ্ধারে ৪৪ কোটি ১০ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৮ কিলোমিটার নদীপথে ৪৫ লাখ ঘনমিটার মাটি খনন করা হবে। দীর্ঘদিনের পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ও পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সুতিয়া নদী ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৬১ মিটার। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে বের হয়ে নদীটি গফরগাঁও এলাকায় বানার নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। তবে মৌসুমি এই নদীতে বছরের দীর্ঘ সময় পানিপ্রবাহ কম থাকে। পাশাপাশি পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পলি জমা, নদীর বিভিন্ন অংশ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং কোথাও কোথাও দখলের কারণে সুতিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হয়ে নদীসংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে নদীর মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষিজমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার ক্ষতি কমতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ ও ধারণক্ষমতা বাড়লে সেচ সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নদীর নাব্যতা ফিরলে মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যও উপকৃত হতে পারে। একসময় সুতিয়া নদী ত্রিশালের জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। নদীপথে পণ্য পরিবহন, মাছ ধরা ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন স্থানীয় মানুষ। নাব্যতা কমে যাওয়ায় সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু খনন করলেই নদীর দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত হবে না। খননের পর নদীর সীমানা সংরক্ষণ, দখল ও দূষণ বন্ধ, খননকৃত মাটির যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবর রহমান লিটন বলেন, ‘নদী বাঁচলে, ত্রিশাল বাঁচবে।’ ত্রিশালের দীর্ঘদিনের নদী রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সুতিয়া নদীর ক্যাপিটাল ও সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন বলেও জানান। প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ায় সুতিয়া নদী তার নাব্যতা ফিরে পাবে এবং কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুতিয়া নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ত্রিশালের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনজীবনে বহুমাত্রিক সুফল আসতে পারে। নদী তীরবর্তী কৃষক, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষও প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন।









আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]