বুধবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


শেরপুরে ১০ বছর পর ঘরের বাইরে জমেলা, হুইলচেয়ারে বসালেন ডিসি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪০ এএম  (ভিজিট : ৯)
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের জমেলা বেগম। কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় বিছানা ছেড়ে ওঠার সক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। অন্যের সহায়তা ছাড়া নড়াচড়া তো দূরের কথা, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজও করতে পারেন না।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জমেলার জীবনে আসে ব্যতিক্রমী এক দিন। প্রায় এক দশক পর হুইলচেয়ারে বসে ঘরের বাইরে বের হন তিনি। তার বাড়িতে গিয়ে হুইলচেয়ার, ১০ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে ঘরের বাইরে আনা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমেলার বসতভিটায় মাটি ভরাট, নিরাপদ ঘর নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কথাও জানানো হয়েছে।

ঘরের বাইরে এনে হুইলচেয়ারে বসানোর পর কিছুক্ষণ নীরবে চারপাশ দেখছিলেন জমেলা। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার পর মুক্ত বাতাসে বসার এই সুযোগ তার জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ এক মুহূর্ত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭০ বছর পেরোনো জমেলা প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। তার একমাত্র ছেলে জীবিত থাকলেও নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। প্রায় ২০ বছর আগে মেয়েও মারা গেছেন। ফলে জীবনের শেষ সময়ে এসে অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন তিনি।

অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের বসতভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছে জমেলাকে। তাতেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

জমেলার বসতঘরেও এতদিন বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ফলে অন্ধকার ঘরে বিছানায় শুয়েই কেটেছে দিনের পর দিন। চলাফেরার সক্ষমতা হারানোর পর তার জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

একসময় জোসনা নামে একটি মেয়েকে নিজের নাতনি হিসেবে লালন-পালন করেন জমেলা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জোসনার বিয়ে হয়। বর্তমানে জোসনার পরিবারও অন্যের বাড়িতে বসবাস করে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অসহায় জমেলার নিয়মিত দেখাশোনা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কোনোভাবে জমেলার খাবারের ব্যবস্থা হয়। তবে চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, জমেলা এখনো কোনো সরকারি ভাতার আওতায় আসেননি।

মঙ্গলবার প্রায় ১০ বছর পর ঘরের বাইরে এসে হুইলচেয়ারে বসার সুযোগ পেলেন জমেলা। এখন তার প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন সুবিধার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সহায়তা।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘জমেলা বেগমের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছি। তাকে হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার জন্য নিরাপদ ঘর, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আওতায় তাকে আনারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এ সময় শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও শিক্ষা ও আইসিটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম কমল, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রাজিবুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক মো. জাহিদুল হক মনির, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংবাদিক মুজাহিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]