নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট সেবা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় ডিএমসিসি এর কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয়ান ইউনিয়ানের অর্থায়নে, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এর তত্বাবধানে, প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের কুমিল্লা জেলা বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসাবে রামরু কাজ শুরু করেছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের কর্মকর্তা আতিকুর ইসলাম সহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
সভায় প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা জেলায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রকল্পের প্রতিনিধিরা জানান, অভিবাসনপ্রত্যাশী ও বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ডিএমসিসি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে শুধু জনসচেতনতা বৃদ্ধি নয়, বরং জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশফেরত অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণ, রেমিট্যান্সের সঠিক ব্যবহার এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ডিএমসিসি-এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসনের তথ্য প্রচার, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, অংশীজনদের দায়িত্ব, সমন্বয়ের ক্ষেত্র এবং জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লায় ডিএমসিসি-এর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করার পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসন সেবা এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে জেলা পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় কাঠামো গড়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।