পরিবহন খরচ বাড়ার প্রভাবে পঞ্চগড়ের নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে বেশ কিছু পণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজন প্রতি প্রায় ৬ টাকা বেড়ে ১৫৬ টাকায় উঠেছে। পাশাপাশি চাল, মুরগি ও অধিকাংশ সবজির দামও বেড়েছে। তবে মাছের বাজারে দেখা গেছে কিছুটা স্বস্তির চিত্র। সরবরাহ বেশি থাকায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি টমেটো প্রায় ১০০ থেকে১২০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৯০ টাকা, পেঁপে ৮০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ২০ টাকা ও রসুন ৯০থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ফুল কপি ১২০ থেকে ১৫০, বাধা কপি ৬০ থেকে ৮০, ধনিয়া পাতা ৩০০ টাকা কেজি, যা তুলনামূলক বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দামসহ পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মোকাম থেকে পণ্য আনতে তাদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সেই বাড়তি খরচের প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা ইচ্ছা করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন না।
এদিকে চালের বাজারেও বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বস্তাপ্রতি চালের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে মুরগি প্রতি কেজি প্রায় ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ৬ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে নিত্যপণ্যের বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। মাছের বাজারে বরং কমেছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় তুলনামূলক কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারছেন তারা।
বাজারে দামের এই ওঠানামায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীরা জানান, ডাল, পেঁয়াজ, আলুসহ কিছু পণ্যের দাম বর্তমানে তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদার ওপরও দাম নির্ভর করছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাবের পাশাপাশি সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা জরুরি।