অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ছয় দিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন পদ্মা অয়েল কোম্পানির শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনের দুটি ধারায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়- ২৭(১) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২৬(২) ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা, অবৈধ সম্পদের সমপরিমাণ ২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড। এই টাকা না দিলে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে। মামলায় জব্দ করা সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিচার চলার সময় নাছির নিয়মিত আদালতে আসতেন, কিন্তু রায়ের দিন তিনি হাজির হননি। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কবির হোসেন জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে প্রমাণ হয়েছে, নাছির উদ্দিন ২ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন ২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকার সম্পদও অর্জন করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে জমা পড়া একটি অভিযোগ থেকে। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল নাছিরকে সম্পদের হিসাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ১২ মে হিসাব জমা দেন। সেই হিসাব যাচাই করতে গিয়েই গরমিল ধরা পড়ে।
আনোয়ারার চাতরী এলাকায় শশী কমিউনিটি সেন্টার তৈরিতে খরচ দেখানো হয়েছিল ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রকৌশলীর যাচাইয়ে খরচ পাওয়া যায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ১৩৪ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার খরচের তথ্য লুকানো হয়েছিল। নাছির ঘোষণা দিয়েছিলেন ১ কোটি ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৪ টাকার। দুদক পেয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৯ হাজার ২২০ টাকার। ফলে ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৬ টাকার সম্পদের কথা তিনি জানাননি।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর মামলা হয়। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
নাছির উদ্দিন প্রথমে অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে পদ্মা অয়েলে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৬ সালের ২৩ আগস্ট ২৩০ টাকা মূল বেতনে পিয়ন পদে তাঁর চাকরি স্থায়ী হয়। ২০১৪ সালে ট্যাংকলরি হেলপার থেকে চেকার, আর ছয় মাস পরই সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডিপোতে ক্লারিকেল সুপারভাইজার। মামলার সময় তিনি সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর বাড়ি আনোয়ারা থানার চাতরী গ্রামে, বাবা মৃত শেখ মোহাম্মদ।
সাজা হওয়ার পরও নাছিরকে ৪৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছে পদ্মা অয়েল। এ নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্পষ্ট নয়।
মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মীর মো. ফখরউদ্দিন জানান, ছুটির আবেদন আগেই করা ছিল। বিষয়টি এখন স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ায় আইন ও বিধি অনুযায়ী নাছিরকে বরখাস্ত করা হবে।