সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


পঞ্চগড়ে চালুর দুই মাসেই ধসে পড়ল ৬ কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম  (ভিজিট : ১২)
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের ধরধরা এলাকায় টাঙ্গন নদীর ওপর প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ও সংযোগ সড়ক চালুর মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চার বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার পর তিন দফা সংশোধন শেষে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা এই অবকাঠামোর এমন বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

রবিবার  (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গন নদীর ওপর নবনির্মিত সেতুর উভয় পাশের প্রায় ২০০ মিটার হেরিংবোন (ইটের) সংযোগ সড়ক হালকা বৃষ্টিতেই ধসে পড়েছে। ফলে যানবাহন ও মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুদিন আগে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ সেতুটি উদ্বোধন করতে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের মুখে উদ্বোধন না করেই ফিরে যান। সে সময় তিনি কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টাঙ্গন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রাস্তা ভরাটের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়নাথসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, নদী থেকে তোলা বালু দিয়ে ভরাট করলে রাস্তা আরও মজবুত হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও এলজিইডির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। সেই আশ্বাসে ভরসা করেই স্থানীয়রা কাজ করতে বাধা দেননি। কিন্তু নরম বালুর ওপর দ্রুত ইটের হেরিংবোন বসানোর কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ধসে পড়েছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে ধীরগতিতে চলা কাজটি মাত্র দুই মাস আগে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখানে তদারকির ঘাটতি ছিল এবং ঠিকাদার চরম গাফিলতি করেছে।

বোদা উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সেতুর দুই পাশের প্রায় ২০০ মিটার হেরিংবোন রাস্তা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এত দ্রুত রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। কাজের মান নিয়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সেতুর আটোয়ারী অংশের সংযোগ সড়ক হেরিংবোনের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে কার্পেটিং করার জন্য নতুন বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তদন্তে যদি কোনো গাফিলতি বা নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এম এস কর্পোরেশন’। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।









আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]