চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের একমাত্র এমআরআই মেশিনটির গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্রাংশ 'হেড কয়েল' অকেজো হয়ে পড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে মস্তিষ্কের এমআরআই পরীক্ষা। এতে স্ট্রোক, মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা ও জটিল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের ছুটতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি ও খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মেশিনের অন্যান্য অংশ সচল থাকায় শরীরের বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এমআরআই পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
জানা গেছে, এমআরআই মেশিনে দেহের ভিন্ন ভিন্ন অংশ পরীক্ষার জন্য আলাদা আলাদা কয়েল বা অ্যান্টেনা ব্যবহৃত হয়। মস্তিষ্কের ছবি নেওয়ার জন্য মাথায় পরানো হয় হেলমেট-সদৃশ একটি বিশেষ যন্ত্র, যাকে বলা হয় 'হেড কয়েল'। ঠিক এই অংশটিতেই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ব্রেইন স্ক্যান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে মেরুদণ্ড, হাঁটু, কোমর ও পেটের পরীক্ষায় ব্যবহৃত কয়েলগুলো ঠিকঠাক কাজ করায় সেসব পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ব্রেইন এমআরআই স্ট্রোক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, টিউমারসহ নানা জটিল স্নায়বিক রোগ নির্ণয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে জটিল রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেখানে অত্যাবশ্যক, সেখানে হাসপাতালের নিজস্ব সুবিধা বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন বাধ্য হয়ে বাইরের ল্যাবের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক ও শারীরিক দুর্ভোগ দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, হেড কয়েলের ত্রুটির কারণেই শুধুমাত্র ব্রেইন স্ক্যান বন্ধ রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে এবং প্রকৌশলীরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দ্রুততম সময়ে সেবাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি, সেইসঙ্গে জানান মেশিনের বাকি সব পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই চালু আছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চমেক হাসপাতালে জাপানি প্রতিষ্ঠান হিটাচির তৈরি ১ দশমিক ৫ টেসলার এই এমআরআই মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছিল, যা সরবরাহ করেছিল ঢাকার মেডিটেল প্রাইভেট লিমিটেড। মেশিনটির ওয়ারেন্টি মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত, তবে তার আগেই এতে ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর বিভিন্ন সময় কারিগরি জটিলতায় একাধিকবার বিকল হয় মেশিনটি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ করে মেরামতের মাধ্যমে ২০২৫ সালে মেশিনটি ফের সচল করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন অঙ্গের এমআরআই সেবা দিয়ে আসলেও এবার নতুন করে ব্রেইন স্ক্যানের যন্ত্রাংশে ত্রুটির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাটি ফের বন্ধের মুখে পড়ল।