প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
(ভিজিট : ১৭)
জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাঈদ আহমদ ইমরান বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে এই মামলাটি রুজু করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাবে আ জ ম নাছির উদ্দীনের নামে স্থাবর সম্পদ ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকার, আর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকা। এই সময়ে তাঁর নামে দায়-দেনা ছিল ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকা। দেনা বাদ দিলে তাঁর প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকায়।
এছাড়া একই সময়ে পারিবারিক ও নানা খাতে তিনি ব্যয় করেছেন ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস মিলেছে মাত্র ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকার। এই হিসাব অনুযায়ী, তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে মিলছে না প্রায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকার সম্পদ।
দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ আহমদ ইমরান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সম্পদ বিবরণীতে আ জ ম নাছির উদ্দীন মাছ চাষ থেকে আয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে তদন্তে নেমে বাস্তবে তাঁর কোনো মৎস্য খামারের অস্তিত্বই খুঁজে পাননি দুদকের কর্মকর্তারা। এমনকি যাঁদের সঙ্গে মাছ চাষের চুক্তিপত্র দেখানো হয়েছিল, তাঁরাও এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন তাঁদের কোনো পুকুরই নেই।
সাঈদ আহমদ ইমরান বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে অসাধু পন্থায় জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এই বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং তা ভোগদখলে রেখেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।