ঘরবাড়ি নেই, নেই খাবার আর নিরাপদ পানিও, আকস্মিক বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালের অসংখ্য পরিবার এখন কাটাচ্ছে চরম দুর্বিষহ সময়। এমন সংকটে দেশটির দুর্গত মানুষের পাশে এবার মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশের একটি বেসরকারি উদ্যোগ।
সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে স্বাভাবিক জনজীবন থমকে গেছে। বহু পরিবার হারিয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই, জীবিকার উৎস এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটে দিন কাটছে অসংখ্য মানুষের, যাদের সামনে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা।
এই সংকটকালে নেপালের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন (আশ ফাউন্ডেশন)। প্রতিষ্ঠানটির জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়, এর আগে বাংলাদেশ, তুরস্ক, মরক্কো, গাজা ও আফগানিস্তানেও দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল সংগঠনটি। এবার তাদের নজর নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকায়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালের নোয়াকুট জেলার দেবীঘাট এলাকায় শুরু হয়েছে বিশেষ মেহমানখানা কার্যক্রম। নেপালে নিবন্ধিত এনজিও ASH Sanstha Nepal-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন প্রায় দুইশ অসহায় ও বন্যাক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
বন্যায় সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে বিশেষ উদ্যোগও নিয়েছে ফাউন্ডেশনটি। ৫০টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন তাঁবুসহ বিশেষ "ভালোবাসার উপহার প্যাকেজ"। এই প্যাকেজে রয়েছে নতুন খাট, তোষক, বালিশ, বেডশিট ও কম্বল, প্রেসার কুকার, রান্নার কড়াই, স্টিলের প্লেট-গ্লাস, ছুরি ও চপিং বোর্ড, ওয়াটার ডিসপেনসার, স্যানিটারি প্যাড, টুথপেস্ট, টি-শার্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, সংকট ও দুর্যোগের মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় প্রকাশ। তিনি জানান, দল-মত কিংবা ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই মানবিক উদ্যোগ বন্যাবিধ্বস্ত নেপালের অসহায় ও গৃহহীন পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে এবং কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকার এই বার্তা পৌঁছে দেবে আন্তর্জাতিক সৌহার্দ্যের এক দৃষ্টান্ত হয়ে।