প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
(ভিজিট : ১৯)
শুক্রবারের জুমার নামাজ তখন সবে শেষ হয়েছে। এলাকার একজন প্রবীণ মানুষ দুটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন ,সাধারণ একটি বিকেল, যার পরিণতি এমন মর্মান্তিক হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। মুহূর্তের অসতর্কতায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একই দিনে প্রাণ হারালেন একটি শিশু ও তাকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়া এক ব্যক্তি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর প্রায় আড়াইটার সময় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, নামাজ শেষে দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫) নামের একজন দুই শিশুর হাত ধরে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ একটি শিশু হাত ছাড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছুটে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেখানে পৌঁছে যায়।
শিশুটিকে বাঁচাতে মুহূর্ত দেরি না করে দৌড়ে যান মিন্টু। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আর গুরুতর আহত হয় রাহাত (১০) নামের শিশুটি।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ও শিশুটির বাবা মো. ফারুক তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অর্থোপেডিক বিভাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যায় শিশুটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন।
নিহত রাহাত পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুকের ছেলে।
ছেলে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা মো. ফারুক। তিনি জানান, জুমার নামাজের পর মাত্র ২০ টাকা হাতে নিয়ে চটপটি কিনতে বেরিয়েছিল তার ছেলে। কিন্তু হঠাৎ ছুটে আসা ট্রেন কেড়ে নিল তার সব স্বপ্ন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার ছেলের আর হাত নেই, পা নেই এখন সে নিজেই আর নেই।
এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকাকেই শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। একদিকে সন্তানসম শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া এক মানুষের আত্মত্যাগ, অন্যদিকে সেই চেষ্টা সত্ত্বেও অকালে ঝরে যাওয়া একটি শিশুপ্রাণ, দুটি মৃত্যুই রেখে গেছে গভীর বেদনার ছাপ।