শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভবন ক্রয় নিয়ে ‘অপপ্রচার’, তথ্য তুলে ধরল কর্তৃপক্ষ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ১৪)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভবন ক্রয় ও সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি যাচাই-বাছাই, মূল্যায়ন ও ক্রয়প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ভবনটি ক্রয় একটি দীর্ঘ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের একনেকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০১৭ সাল থেকে প্যারিসে দূতাবাসের নিজস্ব ভবন খোঁজার কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের মার্চে অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল প্যারিসে সরেজমিন পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনের পর পাঁচটি ভবন তালিকাভুক্ত করা হয়। কমিটির সব সদস্যের সম্মতিতে প্যারিসের অভিজাত এলাকা প্যারিস-১৬-এর ১২-১৪ Rue Octave Feuillet-এর ভবনটি দূতাবাসের জন্য উপযুক্ত হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী ভবন বিক্রির জন্য নিয়োজিত এজেন্সি ওই ভবনের মূল্য ৩১ মিলিয়ন ইউরো নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। পরে একটি স্বাধীন রিয়েল এস্টেট মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই মূল্য যাচাই করা হয়। এরপর ভবনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে মূল্য কমিয়ে ২৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো নির্ধারণ করা হয়।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ফ্রান্সের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভবন ক্রয়ের চূড়ান্ত দলিল সম্পাদন করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের একাধিক ধাপ অনুসরণ করেই ভবনটি কেনা হয়েছে।

ভবনটি ক্রয়ের ফলে ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকে ফেরত পাওয়ার মতো মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) একটি অংশও বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্যারিস-১৬ কোনো নির্দিষ্ট কূটনৈতিক এলাকা না হলেও সেখানে ৩০০টির বেশি দূতাবাস, চ্যান্সারি, রাষ্ট্রদূতদের বাসভবন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। এ কারণে এলাকাটি প্যারিসের কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে পরিচিত। এর কাছেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) অবস্থিত।

তাদের মতে, দূতাবাস স্থানান্তরের উপযোগী বড় ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ভবনের সংখ্যা ওই এলাকায় সীমিত। বর্তমানে এলাকার অধিকাংশ ভবন আবাসিক এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় ফরাসি আইন অনুযায়ী দূতাবাস হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী ভবন খুঁজে পাওয়া কঠিন।

ভবনটির মূল্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু তথ্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী ছয় বছরে ফ্রান্সে ভবনের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইভাবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও ভবনের দামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটে। ফলে পাশের ৭ Rue Octave Feuillet-এর একটি ভবনের সঙ্গে তুলনা করে ক্রয়মূল্যকে অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

ক্রয় করা ভবনটি প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা (heritage building)। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ফ্রান্সের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের ভবনের কাঠামোগত ও বাহ্যিক সংস্কারের ক্ষেত্রে কঠোর সংরক্ষণবিধি মানতে হয়। ফলে সাধারণ ভবনের তুলনায় সংস্কারকাজের ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি হতে পারে।

ভবনটিকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর দূতাবাসে রূপ দিতে লিফট স্থাপন, লোড-বিয়ারিং দেয়াল সংস্কার, নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন কারিগরি কাজ প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। ভবন ক্রয়ের পর থেকেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করে নতুন ভবন থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

নতুন ভবনে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পাশাপাশি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO)-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদলের কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। সেখানে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, দূতাবাসের ভবন ক্রয় ও সংস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি যাচাই-বাছাই, পেশাদার মূল্যায়ন এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে প্রকৃত তথ্য ও নথিপত্র বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]