সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসী গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, পাসপোর্ট সেবা, কনস্যুলার কার্যক্রম এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেন প্রবাসী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং দূতাবাসের চলমান সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করছেন। এত বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর সেবা একসঙ্গে নিশ্চিত করা কঠিন হলেও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ই-পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ নিয়মিত কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীদের কষ্ট কমাতে রিয়াদের বাইরেও নিয়মিত কনস্যুলার টিম পাঠিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার বিভিন্ন অঞ্চলে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অনেক দূরের এলাকায় দূতাবাসের টিম গিয়ে তিন দিন এমনকি নয় দিন পর্যন্ত বিশেষ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, রিয়াদের বাথা এলাকার প্রবাসী সেবা কেন্দ্র ইডিসি অফিসেও সপ্তাহে তিন দিন—সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সেবা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সেবা নিতে আসায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় এবং অনেকের ভোগান্তি হয়। বিষয়টি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
ই-পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক সেবা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে যে চাপ রয়েছে তা ধীরে ধীরে কমে যাবে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোগান্তি অনেকটাই দূর হবে।
প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেন সৌদি আরবের আইন-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের প্রতিনিধি, তাই তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় কিছু প্রবাসী না বুঝে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও বা ছবি তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এসব বিষয় দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোনো কিছু প্রকাশের আগে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে পাসপোর্ট সেবা কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা নির্দেশনা এখনো দূতাবাসে আসেনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান মো. রেজাউল ইসলাম, প্রেস সচিব মো. নুরুল আমিন, সৌদি আরব বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফারুক আহমেদ চান, প্রধান উপদেষ্টা আবদুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রোটারিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক ফকির আল আমিনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত প্রবাসী সাংবাদিকরা।