কৃষি ও প্রাণিসম্পদনির্ভর জেলা কুড়িগ্রামে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করছেন যুবক-যুবতীরা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কুড়িগ্রামে গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্যচাষ ও কৃষিবিষয়ক বিষয়ে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিন মাস মেয়াদি আবাসিক এই কোর্সে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি কোর্সের আওতায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ, কৃষিকাজ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে নিজ উদ্যোগে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ধারণা ও দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবাসিক হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চারটি ব্যাচে মোট ১৬০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ শতাংশ নারী ছিলেন। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম ব্যাচে বর্তমানে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করে তাদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুড়িগ্রামের গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাত সরাসরি যুক্ত। ফলে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ এলাকায় গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগির খামার, মাছ চাষ কিংবা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে তাদের মধ্যে। কেউ কেউ প্রশিক্ষণ শেষে পারিবারিক পর্যায়ে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ ছোট পরিসরে ব্যবসা বা খামার গড়ে তোলার চিন্তা করছেন।
প্রশিক্ষণার্থী পারভেজ মোসারফ বলেন, আগে গবাদিপশু পালন ও মাছ চাষ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলেও অনেক বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছিল না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পশু-পাখির পরিচর্যা, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ের করণীয়, মাছ চাষ এবং কৃষিকাজের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারছেন। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান নিজের কাজে লাগিয়ে আয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থী রাহিমুদল ইসলাম বলেন, একই কোর্সে কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয় শেখানো হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণটি শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে নিজের এলাকায় প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে।
যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কুড়িগ্রামের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর (উপসমন্বয়কারী) পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জামিল চৌধুরী বলেন, কুড়িগ্রাম অঞ্চলের জন্য এই কোর্সটি খুবই উপযোগী। জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদনির্ভর এই জেলার বাস্তবতার সঙ্গে কোর্সটির বিষয়গুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবক-যুবতীরা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। একই সঙ্গে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রচারণার কাজও চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কুড়িগ্রামের মতো কৃষিনির্ভর এলাকায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে কেন্দ্র করে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতা কতটা কাজে লাগাতে পারছেন এবং তাদের উদ্যোগ টেকসই হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী সহায়তার মধ্যে সমন্বয় থাকলে কর্মমুখী এই কার্যক্রমের সুফল আরও বাড়তে পারে।