প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
(ভিজিট : ৬৫)
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কুড়ালের কোপে শ্বশুর আব্দুল মজিদ মোড়ল (৭০) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে জামাই মোজাম্মেল হক সরকার (৩৫) থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে উপজেলার জামালপুর গ্রামের কলা ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারার সঙ্গে একই এলাকার মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে মোজাম্মেল হক সরকারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রী শাহানারাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন মোজাম্মেল। তবে কলা ব্যবসা করে সংসার চালানো আব্দুল মজিদ মোড়লের পক্ষে জামাইয়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে মোজাম্মেল তার স্ত্রী শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মোজাম্মেল ‘কথা আছে’ বলে ফোন করে তার শ্বশুর আব্দুল মজিদকে জামালপুর বাজারে ডেকে নেন। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মোজাম্মেল সঙ্গে থাকা ব্রিফকেস থেকে কুড়াল বের করে আব্দুল মজিদের মাথায় কোপ দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল মজিদকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে লিটন মোড়ল বাদী হয়ে মোজাম্মেল হক সরকারকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ২৪(৮)২।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই মো. মাসুদ রানা শামিম জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক সরকার শনিবার সকালে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’