প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
(ভিজিট : ২৮)
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির সময় বাধা দেওয়ায় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামরুন আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও ১৬ বছর বয়সী মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুন আক্তার ওই গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মঞ্জুরুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার তিনি ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে বাড়িতে রাখেন। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করার সময় বিষয়টি টের পান কামরুন আক্তার।
এ সময় কামরুন আক্তার, তাঁর স্বামী মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাঁদের বড় মেয়ে মিম ডাকাতদের বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
পরে গুরুতর আহত কামরুন আক্তারকে স্থানীয় ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিভাইন মার্সি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. মো. শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন বলেন, রাত সোয়া ৪টার দিকে কামরুন আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা ও বুকের নিচে গভীর জখম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে আনার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই স্বজনেরা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাতের বেশে এসে এ হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।