প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৪ পিএম
(ভিজিট : ১০)
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি হওয়া গরু বোঝাই একটি ট্রাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ৫টি মৃত ও ২টি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়। বগুড়া জেলা ডিবি ও শেরপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে টাঙ্গাইল জেলা থেকে এই উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দিনাজপুরের কাহারোল থানার রায়পুর গ্রামের আবদুস সালাম সরকার (৩৫), মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাচামারা গ্রামের বুলু মিয়া (২৮) ও একই এলাকার মো. মহিদুল (৩৪)।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তাদের শেরপুর থানায় আনা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৮ জুলাই) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার রসূলগঞ্জ হাট থেকে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি গরু নিয়ে একটি ট্রাক কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
রাত সাড়ে ৪টার দিকে ট্রাকটি শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে ১০-১২ সদস্যের একটি ডাকাত দল অন্য একটি ট্রাক দিয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ডাকাতরা ট্রাকের চালক, সহকারী, মালিক ও রাখালকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পরবর্তীতে ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের একটি ট্রাকে তুলে নিয়ে প্রথমে যমুনা সেতুর দিকে যায় এবং পরে গতিপথ পরিবর্তন করে পুনরায় শেরপুর-ধুনট রোড হয়ে ধুনট উপজেলার দিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে মালিককে রাস্তায় ফেলে দিলেও অন্যদের বেঁধে রাখা অবস্থায় খানপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ব্রিজের কাছে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গরুর মালিক কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর শেরপুর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার অভিযানে নামে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত সিং জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানার সল্লা এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫টি মৃত গরুসহ ট্রাকটি জব্দ এবং ডাকাতিতে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় অপর একটি স্থান থেকে আরও ২টি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, "ডাকাতি হওয়া ট্রাক ও গরু উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা সফল হয়েছে। উদ্ধারকৃত মৃত গরুগুলো স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"