প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
(ভিজিট : ১৬)
নকলের ধরন এখন বদলে গেছে। খাতা দেখে নকল করার দিন শেষ, এখন মোবাইল, ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ডিজিটাল নকলের নতুন কারবার। এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, "ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের যে নতুন পথ তৈরি হয়েছে, সেটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।" এই সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারমুখী না হয়।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে। ফল বেরোনোর পরপরই কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি শুরু করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ফলের পর দীর্ঘ বিরতিতে কোচিং সেন্টারে না যায়, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ফাঁকা সময় রাখা হবে না।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও নতুন পদক্ষেপের কথা জানান মন্ত্রী। সব বোর্ডের খাতা এলোমেলোভাবে (র্যান্ডমলি) যাচাই করা হবে, কেউ বেশি বা কম নম্বর দিচ্ছেন কিনা, সেটি নজরদারিতে থাকবে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছিল। এই চক্র ভাঙতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। মন্ত্রী নিজে ছাপাখানায় গিয়ে পাহারা দেওয়ার কথাও জানান।
শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম আধুনিক করতে হবে। শিক্ষা হতে হবে আনন্দদায়ক, তথ্যনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধভিত্তিক। শুধু উচ্চশিক্ষার দিকে না ছুটে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষায়ও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।