আজ (৩ জুন) দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৯ম জাতীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনে দেশের ১৬টি মহানগর ও প্রদেশের মেয়র ও, ২২৭টি স্থানীয় সরকার প্রধান, স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য এবং শিক্ষা সুপারিনটেনডেন্ট নির্বাচিত হবেন। একই সঙ্গে কয়েকটি সংসদীয় উপনির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং-এর সরকারের জনপ্রিয়তার প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই নির্বাচনকে। বিশেষ করে রাজধানী সিউল ও বুসানের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া (DPK) এবং প্রধান বিরোধী পিপল পাওয়ার পার্টি (PPP)-এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। সিউল ও বুসানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ। ভোটগ্রহণ চলছে দেশের ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে। আগাম ভোটে ইতোমধ্যে রেকর্ড ২৩.৫১ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন, যা দেশটির স্থানীয় নির্বাচন ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
মোট ভোটারের মধ্যে বিদেশি ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৩২ জন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দেশটির আইনে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে F-5 (স্থায়ী বাসিন্দা) ভিসাধারী বিদেশিরা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। তবে তারা প্রেসিডেন্ট বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না।
বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কতজন ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, সে তথ্য নির্বাচন কমিশন আলাদাভাবে প্রকাশ করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদাপ্রাপ্তদের একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (NEC) চেয়ারম্যান রো তাই-আক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনায় বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে ডিপফেক, ভুয়া তথ্য ও নির্বাচনী শৃঙ্খলা ভঙ্গের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আজকের নির্বাচনের ফলাফল শুধু স্থানীয় সরকার গঠনেই নয়, বরং আগামী জাতীয় রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের পাশাপাশি দেশটিতে বসবাসরত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেও নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।