প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম (ভিজিট : )
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে ৫ যাত্রীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধারকারী চার অকুতোভয় যুবককে বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ বিকেলে স্থানীয় অডিটোরিয়ামে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতার অনন্য নজির স্থাপনকারী যুবক রবি উল্ল্যাহ ও তার সহযোগী তিন তরুণের হাতে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং বিশেষ উপহার সামগ্রী তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, "বিপদের মুহূর্তে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের প্রাণ বাঁচানোর এমন নজির সমাজে এক অনন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়। এই তরুণদের মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপ আর্তমানবতার সেবায় একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এদের দেখে নতুন প্রজন্ম মানুষের বিপদে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা পাবে।"
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ একেএস (AKS) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২৭মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে হঠাৎ তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে একটি যাত্রীবাহী নৌকা উল্টে যায়। নৌকাটিতে দুই শিশু ও দুই নারীসহ একই পরিবারের ৫ জন আরোহী ছিলেন। কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে তারা চন্দ্রঘোনা কদমতলী মিনার পাড়ায় যাচ্ছিলেন।
নৌকাটি মাঝনদীতে ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় যুবক রবি উল্ল্যাহ ও তার তিন সহযোগী নদীর উত্তাল স্রোত উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা একে একে নদী থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশু রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬), পলি দাশ, বিপ্লব দাশ এবং রুপন ঘোষকে জীবিত উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তারা চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষে বাড়িতে ফিরে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই সাহসী যুবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত এমন মহতি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এখনো নিখোঁজ নববধূ কনিকা, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
এদিকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এই দুর্ঘটনায় কনিকা দাশ (১৯) নামে এক নববধূ নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি কোদালা ইউনিয়নের জেলে পাড়ার রুবেল দাশের স্ত্রী। রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্জুন বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল এসে পৌঁছেছে এবং নদীতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছিল কিন্তু এখন অবধি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।