প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম (ভিজিট : )
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। অথচ এই পরিস্থিতিতেও একশ্রেণির বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক হামে আক্রান্ত শিশুদের দরজা থেকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে। ছোঁয়াচে রোগের ভয় দেখিয়ে এবং দায়িত্ব এড়াতে তারা রোগীদের সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
এর ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো টার্শিয়ারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে রোগীর ঢল নামছে। শয্যার অভাবে একটি বিছানায়ই তিন থেকে চারজন শিশুকে একসাথে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন,"আমরা আশা করি, করোনাকালীন সময়ের মতো এবারও সবাই হাম আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।"
পরিস্থিতি সামলাতে গত ২০ মে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি সকল জেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে কঠোর নির্দেশনাসহ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে হাম উপসর্গে আসা রোগীকে অন্যত্র না পাঠিয়ে যথাযথ চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বর্তমানে মোট ভর্তি রোগী ১,৮৪৪জন, ল্যাবে হাম শনাক্ত ১৫৬, সুস্থ হয়ে বাড়ি ১,৫৯০, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩১ ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, করোনাকালে যেভাবে ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা বা বেসরকারি খাতে নজরদারি দল গঠন করা হয়েছিল, হামের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নেই। দ্রুত আইসোলেশন সেন্টার ও হাম কর্নার চালু না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তারা সতর্ক করছেন।
চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন "হাম পুরনো ও পরিচিত রোগ হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কম। তবে শিশু মৃত্যু বাড়ছে, তাই দ্রুত আইসোলেশন সেন্টার খোলা এখন সময়ের দাবি।"
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮৪৪ জন।