দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রামবাসী। চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের সব মেগা প্রকল্পের কাজ। এরপর থেকে বন্দরনগরীতে আর কোনো স্থায়ী জলাবদ্ধতা বা পানিবন্দী থাকার কষ্ট থাকবে না বলে জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৩টার দিকে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান মন্ত্রী।
এদিন প্রকল্প পরিদর্শনের সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে তাঁরা প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালসহ আরও কিছু এলাকা ঘুরে দেখেন।
বর্তমানে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে মোট চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত আট বছর ধরে চলা এসব কাজে ইতোমধ্যে ১০ হাজার কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দেনা এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে সরকারি তহবিলে কিছুটা চাপ রয়েছে। তবে চট্টগ্রামের মানুষের কষ্টের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পগুলোতে অর্থের কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।" একইসঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে এসব প্রকল্পে যদি কোনো হরিলুট বা দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে তদন্ত করে জড়িতদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।
গত এপ্রিলেই মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে প্রবর্তক মোড়সহ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কারণে অসমাপ্ত কাজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। বৃষ্টি কমলেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে এবং এ বছরই তা শেষ করা হবে।
তিনি জানান, বিচ্ছিন্ন কোনো কাজ নয়, চট্টগ্রামের ছোট-বড় ১৩০টি খালকে একসঙ্গে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। জোয়ার-ভাটা, বৃষ্টির পরিমাণ এবং সাগরে পানি নামার হিসাব-নিকাশ করেই বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্লুইসগেট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে হয়তো সাময়িক জলজট হতে পারে, তবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।
আগে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলেও এখন সবাই মিলেমিশে কাজ করছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কাজের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
শুধু সরকার কাজ করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, "খালকে ডাস্টবিন মনে করার স্বভাব আমাদের ছাড়তে হবে। জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা ছাড়া এত বড় প্রকল্পের পুরো সুফল পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়।"