বুধবার ২৪ জুন ২০২৬ ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


ওমানে নিহত রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদরের মরদেহ মঙ্গলবার দেশে আসছে
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম  (ভিজিট : ৬৭)
উপজেলার ওমান প্রবাসী চার সহোদরের মরদেহ মঙ্গলবার দেশে আসছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী। ওমানের মুলাদ্দা নামক এলাকায় ওমানের স্থানীয় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে দিকে গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ওমান পুলিশ ময়না তদন্তে জানান। গত ১৩ মে বুধবার রাতে ৪ সহদরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে লালানগরসহ পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

যে পরিবারে কয়েকদিন পর বিয়ের আনন্দ আয়োজন হওয়ার কথা ছিল, সেই পরিবারে আজ শোকের মাতম। প্রবাস জীবনের কঠোর সংগ্রাম শেষে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস পরিশ্রম করছিলেন, তাদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয় বিদারক। এই চার সহোদরের মৃত্যুর শুধু তাদের পরিবারকে নয়, সমগ্র দেশবাসীর হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করেছে।

জীবিকার তাগিদে বিদেশের মাটিতে প্রবাসী ৪ ভাই দেশের অর্থনীতি ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণে অসামান্য অবদান রেখেছেন। অথচ অনেক সময় তারা নানা প্রতিকূলতা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেছেন। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। 

এলাকাবাসীদের তথ্যমতে জানাযায়, নিহত ৪ সহোদররা ছিলেন পাঁচ ভাই। মেজ ভাই গ্রামে থাকেন, বড় দুইভাই এবং ছোট দুইভাই ওমানে থাকেন, তাদের একভাই থাকেন নিজুয়া ও আরেক ভাই থাকেন সুইক এলাকায়, অপর দুইভাই থাকেন বিল্লা নামক স্থানে। ছোট দুইজন ১৫ মে শুক্রবার দেশে ফেরার কথা। সে লক্ষ্যে গত ১৩ মে রাত সাতটার দিকে ছোট দুই ভাইসহ ৪ ভাই একসাথে দেশে ফেরার আনন্দে বারখা এলাকায় শপিং করতে বের হন।

শপিং শেষে ফেরার পথে মুলাদ্দা পলি ক্লিনিক এর সামনে পৌছে তাদের মধ্যে ছোট ভাই শহীদুল ইসলাম তার চাচাতো ভাই পারভেজকে রাত ৮:২৬ মিনিটে ভয়েস এসএমএস পাঠান, আমরা খুবই অসুস্থ, গাড়ির দরজা খুলতে পারছি না বলে পরে লোকেশন টি পাঠিয়ে দেয়। তার চাচাতো ভাই পারভেজ দশ মিনিট পরে কল ব্যাক করলে কোন রিপ্লাই পাইনি।

মুলাদ্দা ক্লিনিকের পাশে রাত ১:৩০ মিনিটে দুইজন বাংলাদেশী একজন গ্রোসারী দোকানে এবং অপরজন অটো ইলেকট্রিশিয়ান দোকানে চাকরি করে। তারা দোকান বন্ধ করে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার সময় গাড়িটি রাস্তার পাশে চালু অবস্থায় দেখতে পেয়ে মোবাইলের লাইট দিয়ে ভিতরে দেখতে পান দুজন সামনের সিটে বেল্ট পরা অবস্থায়, অপর দুজন পিছনের সিটে গর্দান ভাঙ্গা অবস্থায় বসে আছে। তারা অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পড়ে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। 

রাত ২ টায় পুলিশ এসে অবস্থা বুঝতে পেরে অ্যাম্বুলেন্স কল করেন রাত তিনটায় এম্বুলেন্স আসার পর দরজা খুলে তাদেরকে মৃত অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে নেন। প্রথমে মুলাদ্দা হসপিটালে পরে রিসাইল মিলিটারি হসপিটালে মৃতদেহ হস্তান্তর করেন। ঘটনাটি ঘটে, বাংলাদেশী মালিকানাধীন আবু রায়ান পলি ক্লিনিক এর সামনে আল মুলাদ্দা নামক একটি জায়গায়।

ওমান পুলিশের তদন্তদল ময়না তদন্ত রির্পোটে উল্লেখ করেছেন, ৪ সহোদরের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, দীর্ঘক্ষন গাড়ির এসি সচল থাকায় এবং কার্বন ড্রাই অক্সাইডের বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হাওয়ার কারনে তাঁদের শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে ওমান পুলিশ হেফাজতে মৃতদেহ রিছাইল মেলেটারি হাসপাতালে রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরে  আনতে দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। অপর দিকে নিহত পরিবারের নিকট আত্মীয়রা ওমানে সব রকম কাগজ পত্র সম্পন্ন করে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মরদেহ দেশে ফিরে আনতে সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন বলে নিহতদের খালাতো ভাই সালাউদ্দিন নিশ্চিত করেন।

নিহতদের খালাতো ভাই সালাউদ্দিন জানায়, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্যভাই সাহেদুল ইসলাম সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন। অন্য দুই ছোট ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে দেশে ফিরছিলেন। 

একই পরিবারের ৪ রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন মর্মান্তিক মূত্যুতে রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশসহ ওমান মধ্যপ্রাচ্যের সকল  প্রবাসীদের মাঝেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]