ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এ অসহনীয় ভ্যাপসা গরম ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা।
আজ (শনিবার, ২৫ এপ্রিল) রাতের লোডশেডিং পরিস্থিতি জনজীবনকে আরও অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাতে সর্বোচ্চ মাত্র ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা এই সংকট নিরসনে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দবির উদ্দীনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। তার ওপর দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
সালথার বাসিন্দারা জানান, দিনে কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর রাতে ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্যাপসা গরমে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক সুবিধা ছাড়া থাকতে গিয়ে চরম অস্বস্তি পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিদ্যুৎ গ্রাহক বলেন, “২ ঘণ্টায় মাত্র ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ পেয়েছি। এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। সারাদিন ক্লাস শেষে বাসায় এসে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। এমনকি ক্লাসরুমেও প্রায় সময় লোডশেডিংয়ের কারণে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে এবং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগী মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই ভোগান্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।