প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪১ পিএম
(ভিজিট : ২৯৪)
দক্ষিণ কোরিয়ায় বসন্ত মানেই প্রকৃতির এক অনন্য রূপ—চেরি ফুলের (벚꽃) সাদা-গোলাপি আভায় সেজে ওঠা চারপাশ। প্রতিবছর মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতে দেশজুড়ে শুরু হয় এই মনোমুগ্ধকর উৎসব, যা এখন কোরিয়ার অন্যতম বড় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
চেরি ফুলের উৎসবের ইতিহাস জড়িয়ে আছে জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনামলের সঙ্গে। সে সময় জাপানিরা তাদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চেরি গাছ রোপণ করে। বিশেষ করে জিনহে এলাকায় এ উদ্যোগ বেশি দেখা যায়।
স্বাধীনতার পর প্রথমদিকে এই ফুলকে অনেকেই জাপানি ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দেখলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোরিয়ানরা এটিকে নিজেদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমানে জিনহে গুনহাংজে উৎসব দেশটির সবচেয়ে বড় চেরি ফুলের উৎসব হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রতিবছর লাখো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
রাজধানী সিউলসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এ সময় বসন্ত উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইয়েওইদো হানগাং পার্ক, নামসান পার্ক এবং কিয়ংবকগুং প্রাসাদ এলাকায় চেরি ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমায় দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
চেরি ফুলের এই সৌন্দর্য শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, এটি গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও বহন করে। ক্ষণস্থায়ী এই ফুল জীবনের অনিত্যতা, সৌন্দর্য এবং নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। মাত্র কয়েক দিনের জন্য ফোটা এই ফুল মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—জীবনের প্রতিটি সুন্দর মুহূর্তকে উপভোগ করার গুরুত্ব।
উৎসব চলাকালে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত পরিবেশনা, আলোকসজ্জা এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পিকনিকের মাধ্যমে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সন্ধ্যার পর আলোকিত চেরি গাছের নিচে হাঁটা যেন এক স্বপ্নময় অভিজ্ঞতা।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার চেরি ফুলের উৎসব শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রদর্শনী নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের এক অনন্য সম্মিলন, যা প্রতি বছর নতুন করে মানুষকে মুগ্ধ করে।