দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সিউলের একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২৫০ জনেরও বেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান, কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট সদস্যরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী এইচ. ই. লিম সাং উ।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লাখ শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন, নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্বে দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরলসভাবে কাজ চলছে, যেখানে সামাজিক সম্প্রীতি, সুশাসন, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান অতিথি কোরিয়ার উপমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বর্তমান সহযোগিতার মাত্রা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) দ্রুত স্বাক্ষরিত হলে তা শুধু মুক্ত বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সেবা, বিনিয়োগ ও শিল্পখাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ও কোরিয়ান শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এতে দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশি ও কোরিয়ান ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়।