বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় মহিলা দলের নেত্রীদের ওপর হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সুজন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল–এর স্থানীয় নেত্রীরা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রী ও সমর্থকরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পাঁচ রাস্তার মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি পারভিন বেগম, সাধারণ সম্পাদক ইভা জমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসমা বেগমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করো”, “নারী নির্যাতনের বিচার চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, ফলে পুরো এলাকা জুড়ে এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত একটি আলোচনা সভা চলাকালে সুজন, তার মা সাগর আক্তার এবং বড় ভাই সোহাগ তালুকদার অতর্কিতভাবে সভাস্থলে প্রবেশ করে হামলা চালান। এ সময় উপস্থিত নেত্রীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, মারধর এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। ঘটনায় কয়েকজন নেত্রী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসমা বেগম মানববন্ধনে আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে বলেন, “আমি ওই পরিবারেরই পুত্রবধূ। পারিবারিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আমাকে প্রকাশ্যে অপমান ও মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”
সাধারণ সম্পাদক ইভা জমান অভিযোগ করেন, সুজন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “গত ১৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয় এবং পরে মামলা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বিভিন্ন সময় নিজেকে থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ফোন করে মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সাগর আক্তার একই সংগঠনের একটি দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তারা বলেন, এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বক্তারা দাবি করেন, সুজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট শরণখোলা প্রেসক্লাবে হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারা বলেন, ওই ঘটনারও এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনগত অগ্রগতি হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি সমাজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তা শুধু ব্যক্তি বা একটি সংগঠনের জন্য নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে নেত্রীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা ধারাবাহিকভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।