প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম
(ভিজিট : ১৪)
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার এক পুরনো মামলায় অবশেষে রায় দিয়েছেন আদালত। প্রায় সাত বছর আগের এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. সোহেল (৩৭)। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরুং গ্রামের বাসিন্দা, বাবার নাম মো. শফি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় সোহেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি পলাতক রয়েছেন। রায়ের পরপরই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জুন বিকেলে শাহ আমানত বিমানবন্দরের ভিআইপি প্রবেশপথের কাছে এপিবিএন চেকপোস্টে সোহেলকে থামানো হয়। তার সঙ্গে থাকা স্কুল ব্যাগ তল্লাশি করে পাওয়া যায় ২ হাজার ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট। এখানেই শেষ নয়, তার পায়ের জুতার ভেতরেও লুকানো ছিল আরও ৩ হাজার পিস ইয়াবা। অর্থাৎ মোট ৫ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনি ধরা পড়েন।
তল্লাশির সময় তার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহগামী একটি বিমানের টিকিটও পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্বীকার করেন, তিনি ওই ইয়াবা নিয়ে শারজাহ যাচ্ছিলেন কিছু পরিচিত ব্যক্তির কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে এবং কিছু নিজের সেবনের জন্য।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরে কর্মরত এপিবিএনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালাম বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অবশেষে রায় ঘোষণা করা হলো।
আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।