চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, শিশুটিকে অপহরণ করেছিলেন তারই আপন চাচা যিনি অপহরণের পর নিজেই পরিবারের সঙ্গে মেয়েটিকে খুঁজে বেড়িয়েছেন, এমনকি থানায় গিয়ে মামলাও করিয়েছেন সন্দেহ এড়াতে।
মঙ্গলবার রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ক্ষেত্র বাজার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে মূল অভিযুক্ত চাচা মো. ফয়সাল (৩২), অটোরিকশাচালক মো. রাকিব (২২) এবং তাদের সহযোগী জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। ফয়সাল সম্পর্কে শিশুটির বাবার মামাত ভাই।
পুলিশ জানায়, শিশুটি রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী। সোমবার স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে চাচা ফয়সাল তাকে থামিয়ে বলেন, তার বাবা অসুস্থ। এই কথায় বিশ্বাস করে শিশুটি সহজেই চাচার সিএনজি অটোরিকশায় উঠে পড়ে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্ষেত্র বাজার এলাকায় ফয়সালের ভাড়া বাসায়, যেখানে তাকে আটকে রাখা হয়।
চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, নিয়মিত পরিবারে যাতায়াত থাকায় চাচার সঙ্গে শিশুটির পরিচয় ও সখ্যতা ছিল আর সেই সুযোগই কাজে লাগান ফয়সাল।
মেয়ে বাড়ি না ফেরায় বাবা খোঁজ শুরু করেন এবং এক সহপাঠীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাকে অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন তিনি।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই পুরো সময়ে ফয়সাল নিজেও পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালিয়েছেন, এমনকি শিশুটির মায়ের সঙ্গে একদিন মাজারেও গিয়েছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেনের ভাষায়, উদ্দেশ্য ছিল একটাই যাতে তাকে সন্দেহ করা না হয়।
স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে অটোরিকশায় তোলার দৃশ্য ধরা পড়ে। সেই সূত্র ধরে পুলিশ অটোরিকশার মালিকানা যাচাই করে, আর তাতেই বেরিয়ে আসে ফয়সালের নাম। এরপর শনাক্ত করা হয় চালক রাকিব ও সহযোগী জাহাঙ্গীরকে।
মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনজনকে আটক করার পর ফয়সালের ভাড়া বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা ও চাচা ফয়সাল দুজনেই একসময় প্রবাসে থাকতেন এবং কয়েক বছর আগে একসঙ্গে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল যে বিশ্বাসের সুযোগই কাজে লাগিয়েছিলেন ফয়সাল।