আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বাড়িয়া) আসনে ভোটের মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিকে কেন্দ্র করে এ আসনে সৃষ্টি হয়েছে বহুমাত্রিক ও আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা প্রতীক ও ছবি সম্বলিত লিফলেট হাতে নিয়ে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রাফিক্স কার্ড, ভিডিও বার্তা ও প্রচারণামূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে গাজীপুর-৫ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান (কলম), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. আল আমিন দেওয়ান (চেয়ার), গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী মো. কাজল ভুইয়া (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিউদ্দিন সরকার (লাঙ্গল)।
এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলনের ধানের শীষ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল হাসানের দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া খায়রুল হাসান প্রত্যন্ত এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার কারণে মাঠপর্যায়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন।
এছাড়াও জনতার দলের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে আলোচনায় রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তিনি এ আসনে ‘চমক’ দেখাতে পারেন। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের তরুণ প্রার্থী মো. আল আমিন দেওয়ান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তরুণ ভোটারদের একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকছে। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমানও নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গণফোরামের কাজল ভুইয়া এবং জাতীয় পার্টির ডা. শফিউদ্দিন সরকারও নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
গাজীপুর-৫ আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অঞ্চলে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতা এখনো বেশি গুরুত্ব পায়। ভোটাররা প্রার্থীর অতীত ভূমিকা, সততা, কর্মদক্ষতা ও এলাকার উন্নয়নে বাস্তব অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেওয়ার কথা জানান। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা।
এ আসনের একাধিক ভোটার জানান, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করেন না। এবার তারা আর প্রতীক দেখে নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। এছাড়া মোট ৩ হাজার ৬৭৭টি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করা হয়েছে। এ আসনে মোট ১২৪টি ভোটকেন্দ্রে ৬৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। এর মধ্যে ৯০টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
তিনি আরও জানান, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।