প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম (ভিজিট : )
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামকে ঘিরে বারবার দেখানো হয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার স্বপ্ন। প্রতিটি নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা দেন উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের হাজারো আশ্বাস। কিন্তু ভোটের উত্তেজনা কেটে গেলেই সেই সব প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে যায়—থেকে যায় কেবল হতাশা আর অপূর্ণ স্বপ্ন।
আবারো সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় সব প্রার্থীই বলছেন, কুড়িগ্রামকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে আনবেন, গড়ে উঠবে শিল্প কলকারখানা, সৃষ্টি হবে হাজারো কর্মসংস্থান। কিন্তু জেলার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই আশ্বাস কি এবার বাস্তবে রূপ নেবে?
জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না, চান বাস্তব উন্নয়ন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জেলায় কর্মসংস্থানের অভাবে হাজারো মানুষ জীবিকার জন্য অন্য জেলায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে।
জেলার কুলি শ্রমিক আব্দুস কালাম বলেন, হাতে করে পেটে চালাই। এই জেলায় যদি নতুন নতুন কাজের সুযোগ হতো, তাহলে দুই টাকা আয় করে নিজের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারতাম।
অন্যদিকে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী স্বচ্ছ রায় বলেন, লেখাপড়া করেও নিজ জেলায় কাজ না পেয়ে হতাশ হতে হয়। আমাদের চাওয়া একটাই—এই জেলায় যেন কর্মসংস্থান তৈরি হয়, যেন পড়াশোনা শেষ করে নিজের এলাকাতেই কাজ করতে পারি।
অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পকারখানা, কর্মসংস্থান—এই তিনটি শব্দ এখন কুড়িগ্রামের মানুষের সবচেয়ে বড় আশা। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতায় তারা জানেন, শুধু নির্বাচন এলেই স্বপ্ন দেখানো হয়, পরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আর কোনো খবর থাকে না।
নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—উন্নয়নের পথে, না আবারো প্রতিশ্রুতির কাগুজে পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে—তা জানতে এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।