বরিশালের বানারীপাড়ায় গভীর রাতে দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে বানারীপাড়া থানাধীন সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সৈয়দকাঠি এলাকার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডাকাতদল দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে নজরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। এরপর তাঁদের মুঠোফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। এ সময় ঘরে থাকা এক শিশুর গলায়ও ছুরি ধরে ডাকাতদলের এক সদস্য।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নজরুল ইসলাম সংবাদ প্রতিদিন–কে বলেন, গতকাল রাতে বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, বড় ছেলের বউ এবং তিন বছরের নাতনি ছিলেন। ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি ডাকাতদল হঠাৎ ঘরের দরজা ও জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আমার ব্যবসার জন্য রাখা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
নজরুল ইসলামের ছোট ছেলে সাইমুন ইসলাম সংবাদ প্রতিদিন–কে বলেন,
“ডাকাত সদস্যরা আমাদের গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেয়। পরে তারা আমার মায়ের কানের দুল, গলার চেইনসহ প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তিনটি মুঠোফোন নিয়ে যায়। ঘরের ভেতরে ১০–১৫ জন ডাকাত প্রবেশ করলেও বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় ছিল। এলাকাবাসী টের পেলে ডাকাতরা অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়।”
ডাকাতির বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলামের প্রতিবেশী মো. আল-আমিন বেপারী বলেন,
“নজরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির পর তারা আমার ঘাটে বাঁধা একটি ট্রলার নেওয়ার চেষ্টা করে। এলাকাবাসী টের পেলে তারা অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়।”
ডাকাতির বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলামের বাবা মো. মুনজুল বেপারী বলেন,
“ডাকাতির খবর পেয়ে বড় ছেলের বাড়িতে গিয়ে দেখি আলমারি খোলা, কাপড়চোপড়সহ জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া দরজা-জানালা ভাঙার কাজে ব্যবহৃত একটি শাবলও ডাকাতরা ফেলে গেছে। পরিবারের সদস্যরা এখনো আতঙ্কে রয়েছে। ডাকাতির সময় আমি আমার নিজ বাড়িতে ছিলাম।”
এ ঘটনায় বানারীপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার এক কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা এ ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছে।”