
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পাশাপাশি ইউরোপে তীব্র শীত দেখা দিলে চলতি শীতে মহাদেশটিতে বড় ধরনের জ্বালানিসংকট তৈরি হতে পারে। প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের গ্যাস মজুতের পরিমাণ ধারণক্ষমতার মাত্র ১০ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
জ্বালানি সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গ্যাসের মজুত ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের গতি কমতে শুরু করে। এতে শীতের শেষ দিকে ইউরোপের জ্বালানি বাজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়বে। পাশাপাশি পরবর্তী গ্রীষ্মে খালি গ্যাস মজুতাগারগুলো পুনরায় পূর্ণ করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তন
বিশ্বনেতারা যখন চলমান পরিবহন অবরোধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছেন, তখনই এ সতর্কবার্তা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনার আগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দিতে চান বলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা অনুমোদন করেছেন মোজতবা খামেনি বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ খবর প্রকাশের পর ইউরোপে পাইকারি গ্যাসের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে দাম কমার পরও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জ্বালানির মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি রয়েছে।
সরবরাহ ঘাটতি ও জার্মানির মজুত
মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের মতো তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করতে পারলেও কাতারের পক্ষে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চালান সহজে অন্য পথে পাঠানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্র গ্যাস রপ্তানি বাড়ালেও কাতারের সরবরাহ ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া এলএনজির জন্য ইউরোপীয় ক্রেতাদের চেয়ে বেশি দাম দিচ্ছেন।
ইউরোপের মধ্যে বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানির গ্যাস মজুত বর্তমানে ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশেরও নিচে রয়েছে। শীত শুরুর আগে দেশটির গ্যাস মজুত অন্তত ৮০ শতাংশে উন্নীত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে থাকায় প্রতিকূল আবহাওয়া ও বাজারের আকস্মিক পরিবর্তনের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঝুঁকি বেড়েছে।
খালি মজুতাগারের চেয়ে বেশি দামের আশঙ্কা
ফ্রান্সের জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক পুয়ানে সংকট নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাঁর ধারণা, ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে ভোক্তাদের অত্যন্ত বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে।
প্যাট্রিক পুয়ানে বলেন, বাজারে সংঘাত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। সেই প্রত্যাশার কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে ইউরোপকে এখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে।