রাশিয়ার বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন ও ক্রেমলিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ক্রেমলিনের একজন উপদেষ্টা এই তথ্য জানিয়েছেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস বুধবার জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা বেশ কিছু সময় ধরে চলছে।
তবে তিনি আরো যোগ করেন, ‘এর ফলাফল কী হবে, তা আমি জানি না।’ উশাকভ জানান, এই তহবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বাইডেন প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল এবং এটিকে পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের একটি ‘পরিচিত অবৈধ তহবিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস মঙ্গলবার প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে, ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে রাশিয়ার প্রতি তার সাম্প্রতিক ছাড়গুলোর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, যা ওয়াশিংটনের উভয় রাজনৈতিক দল (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) থেকেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার পশ্চিমা মিত্রদের দূরত্ব বাড়িয়েছে।
এই মাসের শুরুর দিকে, ট্রাম্প বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি ঘোষণা করেন এবং রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রির ওপর সদ্য পাস হওয়া আইনের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করেন।
স্থগিত হওয়া ওই আইনটি কার্যকর হলে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির ওপর ১০০ ভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপিত হতো।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ডিজেল চুক্তির আওতায় বাজার মূল্যে ডিজেল বিক্রির সুবিধার্থে ছয় মাসের জন্য জ্বালানি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিলে, রাশিয়া গত জুলাইয়ের শুরুতে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল।
আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউস মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও ডিজেলের দামের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প আরো বলেছেন, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই তিনি নিষেধাজ্ঞা মওকুফের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
১৮ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এর একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি এবং নির্বোধের মতো এমন কিছু করতে চাই না যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেবে।’
ট্রাম্প বৈশ্বিক জ্বালানির চড়া দামের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন যেন তিনি রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা চালানো বন্ধ করেন।