প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
(ভিজিট : ১৯)
চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নুর (২২) শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। নয় দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার দুপুরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
সিফাতুনের বাবা মো. নুর তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিফাতুনের বাপের বাড়ি চন্দনাইশ পৌরসভায়। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী তারেকের (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন।
সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়ের জন্য নিজ হাতে নাশতা বানিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫)। অভিযোগ রয়েছে, নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে বলে সেখানে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) বেয়াইন জুহিনুরকে মারধর করেন। একই সময়ে পরিবারের আরও দুই নারী রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারতে থাকেন।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।
পরিবারের ভাষ্য, ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থা মারাত্মক খারাপ হয়ে যায় এবং তিনি জ্ঞান হারান। দ্রুত তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান।
ঘটনার দিনই সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার পটিয়া থানায় শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, মারধরের অভিযোগ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফল পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।