যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও নিশ্চিত হচ্ছে না নিরাপদ চলাচল। রাজধানীতে মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত ঘনত্ব, ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রকৃত পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাটতির কারণে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ উদ্বেগ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে সড়কে প্রাণহানি কমাতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, পথচারীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার বৈজ্ঞানিক তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৮। রাজধানীর প্রায় ১ হাজার ৭৪০ কিলোমিটার সড়কের হিসাবে প্রতি কিলোমিটারে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭১২টি। সংগঠনটির দেওয়া তুলনামূলক তথ্যে দিল্লিতে প্রতি কিলোমিটারে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩২৬, হ্যানয়ে ২৮৯, বেইজিংয়ে ২০১, সিঙ্গাপুরে ৪৩ এবং গুয়াংজুতে ১০টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, রাজধানীতে অনিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ। বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহনের নিবন্ধন, কারিগরি মান এবং চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি আবদুল্লাহ মেহেদি দীপ্ত বলেন, ঢাকার আয়তন ও সড়কের তুলনায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। অথচ রাজধানীর গণপরিবহনের অবস্থা শোচনীয় এবং বাস রুট র্যাশনালাইজেশনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
তিনি বলেন, গণপরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো ও সড়কে প্রাণহানি প্রতিরোধ করা কঠিন। যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতা, চালকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নিয়মিত বেতন এবং আনুষ্ঠানিক নিয়োগব্যবস্থার অভাব বাস চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিপরীতে পুলিশের হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৮৪। পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান প্রকৃত চিত্র নিরূপণে সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইনজামুল হক বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় জনবল এবং তথ্য সংগ্রহের যথাযথ পদ্ধতির অভাব এর অন্যতম কারণ। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পেতে আন্তর্জাতিক মানসম্মত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সড়কে প্রাণহানির ঘটনাকে শুধু ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে বিবেচনা না করে এর পেছনের প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। নিরাপদ ফুটপাত ও সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত উদ্ধার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, বাস রুট র্যাশনালাইজেশন কার্যকর করা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার বৈজ্ঞানিক তদন্ত, নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার গঠন, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির মতে, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের সার্থকতা আনুষ্ঠানিকতা পালনে নয়, বরং সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানোর বাস্তব অগ্রগতিতে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন | উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]