দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদ চলাচল, স্বনির্ভর জীবন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তিনি বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা করুণার পাত্র নন; তারা সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী নাগরিক।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে ২০০টি সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘আলোকিত ডিজএবল্ড স্বনির্ভর সোসাইটি’ ও ‘প্রগতি প্রতিবন্ধী মানবকল্যাণ সংস্থা’র প্রতিনিধিদের হাতে সাদাছড়ি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠন দুটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদা খানম বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা কারো মেধা, সক্ষমতা, স্বপ্ন বা সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করে না। তাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস সবার জন্য অনুপ্রেরণা। তাই তাদের প্রতি শুধু করুণা নয়, সম্মান, ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, সাদাছড়ি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্বাধীনভাবে চলাচলে সহায়তা করে এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
তবে শুধু সাদাছড়ি বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত চলাচল উপযোগী রাখা, পথের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, গণপরিবহনকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং সরকারি সেবায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা রাস্তায় চলাচল, যানবাহনে ওঠানামা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়েন উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বৈষম্য, অবহেলা বা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।
সাদাছড়ি পাওয়া শিহাব বলেন, ‘আমরা চোখে দেখি না, সাদা ছড়ি আমাদের বন্ধুর মতো পথ দেখায়। এই সাদা ছড়ি আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ পথচলাকে অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ করবে।’
প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদ চলাচল, অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।