শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ১ কার্তিক ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের চুক্তি ১০ লাখে, গ্রেপ্তার ৭
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম  (ভিজিট : ১৪)

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাঁচ কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। প্রাথমিক তদন্তে পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিনিময়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। তবে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়াতদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহের জন্য চক্রটি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। প্রশ্নপত্র কোথা থেকে ফাঁস হয়েছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে অধিনায়ক জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে এস এম ইমদাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪। পরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]