প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
(ভিজিট : ১৩)
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে কুড়িগ্রামে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। জেলার ৯টি উপজেলায় ৫৬২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৫৮৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যবহার করা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ।
কুড়িগ্রাম জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মনিরুজ্জামান জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার ৫৬২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব চলাকালে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করবেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা।
তিনি জানান, পূজামণ্ডপের গুরুত্ব বিবেচনায় অতি গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে একজন পিসি, একজন এপিসি, চারজন পুরুষ ও দুজন নারী আনসার সদস্যসহ মোট আটজন দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ শ্রেণির মণ্ডপেও নির্ধারিত সংখ্যক পুরুষ ও নারী আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে।
জেলা কমান্ড্যান্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ অক্টোবর অর্ধেক সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবরের মধ্যে বাকি সদস্যদেরও দায়িত্বে নিয়োজিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান তিনি।
এবার দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের স্মার্টফোনে থাকবে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ। কোনো মণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিলে এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানো যাবে। এতে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে বাহিনী। বিশেষ করে কোনো পূজামণ্ডপে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন হলে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মনিরুজ্জামান আরও জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে কোথাও যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সদস্যদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মনিরুজ্জামান।
জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।