
রাজবাড়ীতে পিতৃত্বের দাবি, জীবনের নিরাপত্তা এবং মারধরের বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন মোছাঃ নাছিমা বেগম নামে এক নারী। মামলায় তাঁর দাবিকৃত পিতা জিয়াউর রহমান জিরু মোল্লা (৭০)সহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিয়াউর রহমান জিরু মোল্লার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজবাড়ীর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী মোছাঃ নাছিমা বেগমের দাবি, জিয়াউর রহমান জিরু মোল্লাই তাঁর পিতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পিতৃত্বের স্বীকৃতির দাবিতে জিরু মোল্লার স্থায়ী ঠিকানার বসতবাড়িতে গিয়ে এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানিয়ে আসছেন।
আদালতে দাখিল করা পিটিশনে নাছিমা বেগম উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান জিরু মোল্লা, পিতা-মৃত হবিবর রহমান মোল্লা, গ্রাম-পাঁচটিকরী, থানা-কালুখালী, জেলা-রাজবাড়ী। তিনি বারবার জিরু মোল্লার স্থায়ী ঠিকানার বসতবাড়িতে গিয়ে পিতৃত্বের দাবি জানিয়ে আসছেন। একইভাবে মোবাইল ফোনেও একাধিকবার ফোন করে তিনি একই দাবি জানান।
বাদিনীর অভিযোগ, তাঁর এ দাবির বিপরীতে জিরু মোল্লা, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, কন্যা, ছেলে এবং জিরু মোল্লার ভাই হিরু মোল্লাসহ হিরু মোল্লার দুই ছেলে পনি মোল্লা ও জনি মোল্লা তাঁকে টেলিফোনে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। তাঁকে জীবননাশের ভয় দেখিয়ে বসতভিটা ও এলাকায় আসতে নিষেধ করা হয় বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে পিতৃত্বের একই দাবি নিয়ে নাছিমা বেগম তাঁর কন্যা ও পুত্র সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হিরু মোল্লার বাড়িতে গেলে সেখানে তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
নাছিমার অভিযোগ, ওই সময় জিয়াউর রহমান জিরু মোল্লা (৭০), তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী লিসা বেগম (৫৫), হিরু মোল্লা (৬০), হিরু মোল্লার ছেলে পনি মোল্লা (৩৫), জনি মোল্লা (৩৭), মৃত বিরু মোল্লার মেয়ে নিতু খাতুন (২৩), ছেলে হাফিজ (২৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন তাঁর, তাঁর মেয়ে ও ছেলের ওপর হামলা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লোহার রড ও চাপাতি দিয়ে তাঁদের আঘাত করেন। এতে তাঁরা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা দ্রুত একটি ভ্যানে তুলে দেন। এরপর জীবনে আর পিতৃত্বের দাবি নিয়ে সেখানে না আসার জন্য হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি লাথি, কিল ও ঘুষি মেরে তাঁদের সেখান থেকে বিদায় করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন নাছিমা।
বাদী জানান, ঘটনার পর তিনি কালুখালী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরদিন ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে কালুখালী থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
মামলার আবেদনে নাছিমা আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও কোনো পুলিশি প্রতিকার পাননি। পরে লিখিত অভিযোগ নিয়ে কালুখালী থানায় গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন এবং থানা পুলিশ এ বিষয়ে কিছু করতে পারবে না বলে জানান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
একই দিন এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন নাছিমা। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানালে তাঁরাও আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কেন আইনগত নাগরিক অধিকার এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেন—এমন প্রশ্নও মামলার আবেদনে তুলেছেন বাদী। তিনি কোনো কারণে বা কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে এমনটি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উত্থাপন করেছেন।
বাদী নাছিমা বেগমের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মামলাটি পরিচালনা করছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তসলিম আহমেদ তপন। মামলার মিসপি নম্বর-৮৪৭/২০২৬, তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬।
এ বিষয়ে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।