প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
(ভিজিট : ১৬)
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাতখামারে সার অবৈধভাবে পাচারের সময় ১২০ বস্তা ড্যাপ (DAP) সার সহ একটি ট্রাক্টর জব্দ করেছে বোদা উপজেলা প্রশাসন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে সার ডিলার মের্সাস নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
এসময় সার বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং তার ডিলারশীপ বাতিলের জন্য কৃষি মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বোদা উপজেলার সাতখামার এলাকায় অবস্থিত বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স নুরনবী এন্টারপ্রাইজের গোডাউন থেকে ১২০ বস্তা ড্যাপ সার একটি ট্রাক্টরে লোড করে আটোয়ারী উপজেলায় এক খুচরা ব্যাবসায়ীর কাছে পাচার করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে বোদা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান আলম সহ স্থানীয়রা গাড়িটি হাতেনাতে আটকে দেয়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বোদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার সহ গাড়িটি জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে যায়।
পরে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্বিক তদন্ত শেষে ভ্রাম্যমাণ পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।
এসময় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধ উপায়ে সার পাচারের দায়ে তিনি ডিলার নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে উক্ত ডিলারের সার বিক্রয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং তার লাইসেন্স বা ডিলারশিপ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত ১২০ বস্তা সরকারি ড্যাপ সার পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন নবী, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জু ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ সহ থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কৃষকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে সরকারি সার কালোবাজারে বা অবৈধ উপায়ে পাচারের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সার নিয়ে যেকোনো প্রকার কারচুপি রোধে এই ধরণের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সার ডিলার নীতিমালায় একই পরিবারের সদস্যদের ডিলার নিয়োগের বিষয়টি অবৈধ হলেও নুরনবী এন্টারপ্রাইজ ও তানিম এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি ডিলারশীপ একই পরিবারের বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল ক্ষোভ জানিয়ে বলছেন, আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নীতিমালা ভঙ্গ করে একই পরিবারে দুটি ডিলারশীপ দেয়া হয়েছে। এবং সব জেনে বুঝেও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের নিরব ভূমিকা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।