মঙ্গলবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


সীমান্তে বানের পানির মতো আসছে মাদক, হোতারা অধরা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ এএম  (ভিজিট : ১৫)
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের তিন উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাদক আসছে বানের পানির মতো। এসব মাদক উদ্ধারে সীমান্তের বিজিবি ও জেলার পুলিশ বাহিনী তৎপর থাকলেও থামছে না মাদকের চালান।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা সীমান্তের প্রায় ৪২ কিলোমিটার বনাঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই এসব মাদক উদ্ধার বা জব্দ করা হলেও কারবারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুধু মাঝেমধ্যে কয়েকজন মাদক বহনকারী ট্রাক ড্রাইভার, অটোচালক বা ভ্যানচালককে আটক করা হলেও পরে তারা জামিনে বের হয়ে যায়। কিন্তু এসব মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত করা যায়নি।

তবে সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ জানান, অনেক সময় মাদকসহ কাউকে গ্রেফতার করা হলেও অর্থের বিনিময়ে ওই সব মানুষকে ছেড়ে দেন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আবার অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের খবর চোরাকারবারিরা পূর্বে খবর পেয়ে ভারত থেকে পাচার করে আনা মাদক বনজঙ্গলে ফেলে চলে যায়। যে কারণে মাদকের মূল হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, ভারতের ওপারে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ সদস্যরাও চোরাই পথে মাদক পাচার হয়ে বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে। কারণ তারা চায় বাংলাদেশের যুবসমাজ মাদক সেবনে বুঁদ হয়ে থাকুক। এতে বাংলাদেশের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ুক।

ময়মনসিংহের ৩৯ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত সাড়ে আট মাসে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে ১৭ কোটি ১১ লাখ ৩ হাজার ২২০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে এসব অপরাধে জড়িত ২৪ আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়জিদ বলেন, সীমান্তে চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্গম পাহাড়ি পথকে যারা অপরাধের নিরাপদ রুট মনে করছেন, তাদের সেই আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। যারা আমাদের শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেসব অপরাধী কিংবা তাদের পেছনের গডফাদার কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

বিজিবির প্রকাশিত দাপ্তরিক পরিসংখ্যানে উদ্ধারকৃত মোট মালামালের মধ্যে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য রয়েছে। এ ছাড়া শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় ও অন্যান্য দেশি-বিদেশি পণ্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে পরিচালিত অভিযানে আরও ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮২০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ৪৩ আসামির তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে হাতেনাতে ২৪ আসামিকে আটক করে প্রচলিত নিয়মে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ছাড়া অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া বাকি ১৯ পলাতক আসামির নাম ও পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]