গানের ভেতর দিয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়াই যার দীর্ঘ পথচলার অঙ্গীকার, সেই সংগীতজগতের ‘গুরু’, নগরবাউল খ্যাত মাহফুজ আনাম জেমসের আজ জন্মদিন। সময়ের স্রোতে পেরিয়েছে বহু বছর, বদলেছে সংগীতের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম; তবু গিটার হাতে সেই চিরচেনা ‘গুরু’ আজও গানের মধ্যেই খুঁজে ফেরেন জীবনের আনন্দ। জন্মদিনের এই দিনে নিজের জীবনদর্শন, সংগীত ও নতুনদের নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
জন্মদিন প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘জন্মদিন তো একটাই, যেদিন তুমি জন্মেছ। এরপর এগুলো তো জন্মদিন নয়। যেদিন জন্মেছ, আর যেদিন মারা যাবে মৃত্যুদিন, এই দুইটাই আছে। আমি সমাজ বদল করতে আসিনি। আমি সমাজকে আনন্দ দিতে এসেছি। মানুষ বারবার তো জন্ম নেয় না। জন্মদিন একটাই। আমি কোনো দিনই এভাবে বিশেষভাবে জন্মদিন কাটাই না। এমনিতেই পরিবারের সঙ্গে থাকব, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব।’
সংগীত ও সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেন জেমস। তার কথায়, ‘অনেক আর্ট ফর্ম হারিয়ে গেছে। আবার কিছু আর্ট ফর্ম আছে, যেগুলো মানুষ প্যাশন থেকে, ভালোবাসা থেকেই ধরে রেখেছে।’
গান মানুষের জন্য এমন ভাবনার কথা জানিয়ে এই শিল্পী বলেন, ‘গান বানিয়েছে, মানুষ গান শুনবে, গান গাইবে। পথে-ঘাটে যে যার ইচ্ছামতো গান গাইবে, নিজের মতো করে গাইবে। সংস্কৃতি তো নদীর মতো, এটা বয়ে চলবে। বাধা দিলে এটা বাধাগ্রস্ত হবে। যে যার গান করছে, করতে থাকুক। তবে গান তো বানানোই হয়েছে মানুষকে শোনানোর জন্য এবং গাওয়ার জন্য।’
নতুন গান করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন জেমস। তবে এখনকার সময়টা নতুনদের বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্যে, ‘নতুন গান করার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। এই সময়ে প্রচুর নতুন, ভীষণ ট্যালেন্টেড অনেক আর্টিস্ট আসছে। এখন তাদের সময়, তারা করবে। একটা সময় থাকে, এখন নতুনদের সময়। নতুনরা গান বের করছে, শোনো তাদের গান।’
প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন জেমস। তবে তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। সংগীতের প্রতি গভীর টান থেকেই পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধের একপর্যায়ে ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে শুরু হয় তার সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ পথচলায় নিজের স্বতন্ত্র গায়কী ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে আলাদা জায়গা করে নেন তিনি।