রবিবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শিরোনাম:


হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন সেই ‘রইছ’
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ পিএম  (ভিজিট : ৬)
হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমায় রইছ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি।

চিকিৎসকের পরামর্শে আপাতত বাসায় থেকেই নিতে হবে বিশ্রাম।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল থেকে অভিনেতাকে বাসায় নিয়ে আসা হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আব্বুর শরীর এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। এখন একটু একটু কথা বলতে পারছে, মুভমেন্ট করতে পারছে। তবে এখনো শঙ্কামুক্ত নন।’

হাসপাতালের পিসিসিইউ থেকে বিজয় চৌধুরীকে কেবিনে স্থানান্তরের কথা ছিল। তবে সেখানে কোনো কেবিন ফাঁকা না থাকায় তাকে বাসায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
 
এ প্রসঙ্গে সাবিদ বলেন, ‘হাসপাতালে কেবিন ফাঁকা না থাকায় চিকিৎসক অন্যত্র কোথাও ভর্তির পরামর্শ দেন।

কিন্তু আব্বু বারবারই বলছিলেন বাসায় যাবে। তাই অন্য কোনো হাসপাতালে না নিয়ে আজকে সন্ধ্যায় বাসায় নিয়ে আসি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, আব্বুর এখন পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। পর্যাপ্ত ঘুম হলে দুই দিন পর তারা ইকো করবেন বলে জানিয়েছেন। আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। দুই দিন পর আবার হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে বিজয় চৌধুরীকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সে সময় তার ছেলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এক আত্মীয়ের দাওয়াতে সিংগাইর গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। পরে দ্রুত তাকে ঢাকায় এনে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তাকে পিসিসিইউতে রাখা হয়।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আপাতত বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন এই অভিনেতা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পর দুই দিন পর তার হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের কাছে সমানভাবে স্মরণীয়। বিশেষ করে ছবির শেষ দৃশ্যে রইছের আত্মত্যাগ আজও আবেগাপ্লুত করে দর্শকদের।

আর এই একটি চরিত্রই বিজয় চৌধুরীকে এনে দিয়েছিল ব্যাপক পরিচিতি। সিনেমাটিতে অভিনয়ের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার নাম রাখা হয়েছিল ‘বিজয়’। বর্তমানে ৫৪ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে আজও তিনি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর সেই রইছ।

রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিজয় চৌধুরীর। ১৯৯৩ সালে পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। এরপর আরও দুই-তিনটি সিনেমায় অভিনয় করলেও রইছের মতো আর কোনো চরিত্র তাকে সেই পরিচিতি এনে দিতে পারেনি। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর পর আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি তিনি।

১৯৯৬ সালে সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয়। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিজয় একজন। 








আরও খবর


Loading...
Loading...
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  |   উপদেষ্টা সম্পাদক : রাজু আলীম  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (২১ তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]