প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম
(ভিজিট : ১৩)
ইসরায়েল ও আয়ারল্যান্ড একই গ্রুপে পড়ার পর থেকেই ম্যাচটি বয়কটের তুমুল দাবি উঠছিল আইরিশ ফুটবল অঙ্গনে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে দেশে চলতে থাকা তীব্র বিতর্কের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে ফুটবল মাঠেও।
ইসরায়েলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ না খেলার পক্ষে ‘স্টপ দ্য গেম’ নামে জোরালো এক প্রচারণাও শুরু হয় সেখানে।
মানবিক এই আবেদনে আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের ভেতরও বড় ধরনের দোলাচল তৈরি হয়েছিল। এমনকি শনিবার সকালেও ম্যাচটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ম্যাচের আগের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে তা স্থগিত করা হয় এবং দলের অনুশীলন সেশনও বিলম্বিত হয়।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ফুটবলাররা হোটেলের ভেতরেই জরুরি বৈঠকে বসেন। মাঠে নামা নিয়ে দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তীব্র অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং এর জের ধরে দলের গোলকিপার গাভিন বাজুনু নিজে থেকেই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটির পর শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড।
ম্যাচ খেলতে সম্মত হলেও ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘটিত গণহত্যার প্রতিবাদ জানাতে ভুলছে না আইরিশরা।
হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে গাজায় নিহতদের স্মরণে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন আইরিশ ফুটবলাররা। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার বিলম্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোরেল বলেন, ‘খেলোয়াড়দের অন্যতম অনুরোধ ছিল—এই উইন্ডোর বাকি সময়টিতে তারা কোনো ধরনের সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি বা প্রচারণামূলক কাজে অংশ নেবে না। এর পাশাপাশি (গাজায়) সংঘাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণে তারা ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরিধান করবে।’
প্রতিবাদ এখানেই থামছে না, ম্যাচ শুরুর আগের বেশ কিছু বাঁধাধরা আনুষ্ঠানিকতাও এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এ বিষয়ে কোরেল আরও যোগ করেন, ‘ম্যাচ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানের কিছু অংশে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড অংশ নেবে না। এছাড়া ইসরায়েলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ এবং গত বৃহস্পতিবার আভিভা স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত ফি ও অর্থ দাতব্য সংস্থায় অনুদান হিসেবে প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন খেলোয়াড়রা।’